ব্য তি রে ক

  একটি অনিয়মিত সাহিত্য পত্রিকা

                    ।। ১৩ তম বর্ষ ।।

  অনলাইন ১ম সংখ্যা ।। ২১শে জুলাই, ২০২০

              সম্পাদকঃ

শুভদীপ মাইতি

কাঁথি ।।পূর্ব মেদিনীপুর ।। প.ব. ।। ভারতবর্ষ ।।

কথা: ৯০০২৫৮৫৮৩২

ই-মেল: byatirekmagazine@gmail.com

যাদের কবিতায় সমৃদ্ধ এই সংখ্যা:

প্রণব ঘোষ, রাজীব ঘোষাল, রিমি দে, চিরঞ্জীব হালদার,   শঙ্খশুভ্র পাত্র, শুভঙ্কর দাস, দয়াময় পোদ্দার, ঝিলম ত্রিবেদী, বিকাশ চন্দ, লক্ষীকান্ত মন্ডল, পঙ্কজ কুমার বড়াল, রাজেশ্বরী ষড়ংগী, দীপশেখর চক্রবর্তী, প্রবীর মজুমদার, ভগীরথ সর্দার, শীর্ষা , প্রতাপ হালদার।

প্র ণ ব  ঘো ষ

. কবি পরিচিতি:-

প্রথাগত প্রচারের আড়ালে থাকা এক প্রান্তিক কবিতা-সাধক।
জন্ম মামার বাড়ি হূগলি জেলার বলাগড়ের বাতনা। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা। লেখা লেখির শুরু কালনা কলেজে পড়া ও পত্রিকা প্রকাশ।
যাঁরা একটু অন্যভাবে চিন্তা ভাবনা করেন ও লেখেন কবি প্রণব ঘোষ তাদের মধ্যে একজন।মাটির গন্ধ মাখা কবিতায় ঠিকরে বেরোয় শ্লেষ এবং প্রতিবাদ। দীর্ঘদিন ধরে কবিতা চর্চা ঘুরে বেড়ানো সমসাময়িক প্রেক্ষাপট এবং লোকায়ত দিনদুনিয়ার ভেতরে। পেয়েছেন কবি গোপাল ভৌমিক পুরষ্কার। অরনি ,সুইনহো স্ট্রীট, ব্যতিরেক, সেঁজুতি, কবিতার কাগজ, সাহিত্য জগৎ এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে কবির অসংখ্য কবিতা। 
প্রকাশিত গ্রন্থ : ভাঙন, নির্জনে আছি জেগে,ছড়া, নৌকো নদী প্যাচের ঘুড়ি, লিমেরিক ৭২, শূন্য থেকে নয়, ভূতের আখড়া ইত্যাদি।
সম্পাদিত পত্রিকা: চৌতিশা।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ 

কেয়া ফুলের ঝাঁজ

ধামসা মাদলে নেচে‌ যাচ্ছে

গাছকোমরে শেকল বেড়ি

খোঁপায় কেয়া-ফুলের ঝাঁজ

হলুদমাখা 

উঠোনে একচাটাই কুটুম ঢুলছে 

হাতে জামবাটি 

উনুন পাড়ে পড়ে আছে মুখ থুবড়ে, ভুসো-মাখা তিজেল

কামিনমরদ জানে পাঁচটা দিন শেষে

নতুন তিজেলে ঢুকবে গতর

হাঁফ ছাড়ে 

নতুন কুটুমের মতো দড়ির খাটিয়ায় উন্মাদ চোখ

খোড়োচালে চড়ুইয়ের বাসায়

আনাগোনা করছে অভাবি মাজেন্ডা চাঁদ

পৌষ পরব আসে ফি-বছর ফিরে

মেটে সিঁদুর মেখে চাঁদ হেসে গড়ায়

ফলার অপেক্ষায় আমনের মাঝ মাঠে 

          খাড়া থাকে থোড়

          বুক পেতে চুপচাপ 

ফলা মারে 

ফালাফালা বুক।

পরব উঠোনে দাঁড়ায় 

রাতভর জাগরণ শেষে

জিব টানে কালি খায় খেরোরখাতা

সোদবছর।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ 

সড়ক গুলজার

খালের ভেতর আড়মোড়া ভাঙছে ঘরের বৌ-ঝি

দুপুরের গাছগুলোর ছায়া ছোট হয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত 

আশপাশের বন্ধুবান্ধবরা ছোট হতে হতে জংলি

মাঠের ফসল তাকাতাকি করে কৃষকের দিকে।

মনে পড়ে যাচ্ছে ঢেঁকিশালে ঠাম্মার ধানভানা বহুত বছর

সেসব কবেকার কথা

কষ্টে দিন গেছে খুদ-কুঁড়োয়।

কোমরে টুঙ্গি-চাঁচকাটারিতে বৈঁচিতলায় খেজুরগাছ ছুলতো দাদামশায় 

জিরেনকাটের রস বার করতো

ভারি আহ্লাদ ছিল, সানকিতে গুড়-মুড়ি 

অনেক ওলট-পালট

                             বেলাশেষ।

খালের ভেতর আড়মোড়া ভাঙছে তৎকালজব

দৃষ্টিনন্দন সড়ক গুলজারও বটে?

অলস দিনের শেষে খালপাড়ে

নষ্ট ছিমছাম পাড়াগাঁয়ে 

চাষিদের গলদঘর্মে নেমে আসছে 

লতানে শশা-ঝিঙের ফুলজালিতে 

গা-ঢাকা সন্ধে-কুয়াশা আর

ডালছাটা গাছেদের জীর্ণ নাভি-বুক।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ 

যাদের হোম আছে রাস্তার কুকুরও আছে

ওদের হোম নেই

তাই কোয়ারান্টিন নেই।

গাছতলায় থাকে

বহুরূপী

পরিচয় পাকমারা

কোন সরকারি স্ট্যাম্প ছাড়াই

তাই ওদের জব নেই,

মাগনা চাল-গম নেই

দয়ার সাগরও নেই

ওরা রাস্তার কুকুরও নয়

অথচ এই উপত্যকা ওদের মা 

এরা পাকমারা 

যাদের হোম আছে তাদের ভয়ও আছে

তারা হোম-কোয়ারেন্টিনে, দরজা লকডাউন।

বহুরূপী টোকা দিতে দিতে ফিরে আসে 

নির্ভয়ে 

মুখে ছেঁড়া ন্যাকড়া বেঁধে,স্বপ্নের খোলামেলা গাছতলায়।

রা জী ব  ঘো ষা ল

রাজীব ঘোষালের জন্ম ১৯৭৯ সালের মার্চে। বাড়ি পুরুলিয়া জেলার রুকনী গ্রামে। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলি হল (১)মহাভারত গান শোনাচ্ছেন (প্রকাশক- থিরবিজুরি/২০০৯), (২) বুদ্বুদ ও প্রতিধ্বনি (প্রকাশক- অহিরা/২০১৪),(৩)বিরকিচা নগরের পদ্য (প্রকাশক- অহিরা/২০১৬), (৪)ধুলোট (প্রকাশক- বইতরণী ট্রাস্ট/২০১৭), (৫)খ্যাপাটে ঈশ্বর (প্রকাশক- পরম্পরা প্রকাশন/২০১৯)।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

কসাইয়ের চোখ বেয়ে

জলের বুটিক আঁকা জামা পরে 

মাংসের দোকানে গেলে

কসাইয়ের চোখ বেয়ে মায়া নেমে আসে।

মাংসের টুকরোগুলো হয়ে ওঠে জবাফুল।

রান্না করা জবাফুলের সেই অতুলনীয় গন্ধ

চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তেই

আনন্দের রমরমা…

জামা থেকে লাফিয়ে জলে নেমে যায়

জ্যোৎস্না-পাগল মাছ…

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

সৌন্দর্যের দেবী

রেশম পোকার লালায় গড়ে ওঠা

বিচিত্র সেই রেশম পথে

সমুদ্র ঝড় আছড়ে পড়ার পর

অপর্যাপ্ত সুপুরি-বন ব্যাকুলা হয়…

আরব সাগর পেরিয়ে দূর মিশরে

সৌন্দর্যের দেবী ক্লিওপেট্রা

নীলনদের আয়নায় বারবার নিজেকে দেখে…

দেখতে থাকে তিলধারণের গোপন অভিসন্ধি… 

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

স্বর্গচ্যুত হাসি

জলের ওপর পিঠালি-গোলা দিয়ে

অনুপম নকশা এঁকেছে কেউ

উর্বশীর স্বর্গচ্যুত হাসিটি নেচে উঠছে

নানারঙের শালুকের মাথায়…

কায়াকল্প কিছু মানুষ ছায়ার পিছু পিছু

হাঁটতে হাঁটতে লক্ষ করে, 

জলের ভেতর ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে

তাদের প্রতিবিম্ব সকল…

পুরাতন কোনো কাঠের ঘন্টা বাজিয়ে

আনন্দ গাইছে বেদনা-বিধুর মানুষ…

রি মি  দে

পরিচিতি : নয়ের দশকের এক প্রথম সারির শক্তিশালী কবি। বাসস্থান শিলিগুড়ি। সম্পাদিত পত্রিকা- পদ্য।

প্রকাশিত গ্রন্থ : সাদা পাতার নীচে কালো নদী, রাবণ, বনভোজন, কালোবেড়াল সহ পনরটি বই।

দুই বাংলার প্রায় সমস্ত প্রথম সারির ম্যাগাজিন ও লিটলম্যাগাজিনে ছাপা হয়েছে অসংখ্য কবিতা। কবির ঝুলিতে আছে বেশ কিছু সাহিত্য সম্মান।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

জঙ্গল ভ্রমণ

দশ

এই তো সংযুক্তির প্রথম ধাপ

কুঁড়ির মধ্য থেকে মেরুদণ্ড

প্রতি টানে জ্বর ও জর্জর

প্রসন্ন পাপড়ির কাছে ধরা পড়ে যাওয়া

না বলা চিৎকার

হাহাকারে ওড়ে ঘোরে ঘোর তোলে

ফিরে আসি জল ও জঙ্গল

অনিবার্য সংগম !

এগারো

তাকিয়ে রয়েছে খোলা মাঠ

তাকিয়ে রয়েছি আমি ও বৈভব

শ্যাম রঙ গিলে খেলে আমি মেঘবতী

আবহ ছড়িয়ে দিয়ে নিজেই নিজের

বর্ষাকাল হই, খুঁটিনাটি ছিঁড়ে

গেলে খুঁটে খাই কাদামাটি

বারো

তোলো বর্ষণ, মধ্যরাত, ছাদের কিনার…..

চলো আরো দূরে গভীরে যেখানে কোন ফেরা নেই   ফেরি নেই…..

সেখানে ইতিহাস-ভূগোল-বিজ্ঞান-অঙ্ক

মিলেমিশে একাকার হই !

চি র ঞ্জী ব  হা ল দা র

পরিচিতি: জন্ম- ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৬১

গাববেড়িয়া;দক্ষিন ২৪ পরগণা;প বঙ্গ; ভারত

শিক্ষা- গ্রামের স্কুল, সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ও রামকৃষ্ণ মিশন। বেসরকারি সংস্থায় টেলিকম  ইঞ্জিনিয়ার। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ – ৯ টি, সম্পাদনা – কবিকল্প, লেখালেখির শুরু ১৯৭৯, প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ ১৯৯৪ । কলকাতা পাবলিশার্স ও বুক ফেয়ার গিল্ডের  পুরস্কার ২০০৬  “বাহান্নটা টেক্কা ফিরে ফিরে আসে” কাব্যগ্রন্থের জন্য। সমস্ত বাংলাভাষী পত্রপত্রিকায়।  মূলত লিটিল ম্যাগাজিনে কবিতা প্রকাশ।

প্রকাশিত বই:

ক. দু’পায়ের মূর্খ তুমি হাঁটতে শেখো ১৯৯৪

খ. বাহান্নটা টেক্কা ফিরে ফিরে আসে ২০০৪

গ. গরলভাষ ২০০৫

ঘ.চলো যাই চিড়িয়াখানা২০১০

ঙ.তরাজুপত্রে ভেসে যাও  বর্ণমালা২০১০

চ. আমি ঈশ্বর কে ডাউনলোড করেছি ২০১৪

ছ. সহিস ও ঘোড়ার মধ্যবর্তী যে নদী২০১৭

জ. আয় চাঁদ প্রেমিকার কপালে টি দিয়ে যা ২০২০

ঝ. ছায়া সেলাই করা মানুষের ঠিকানা২০২০

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

বাতাসের আশ্চর্য সহধর্মী আমার বিষন্নতা।

টগর ক্ষেতে পথ হারানো একটা বাচ্চাও তার উদ্বিগ্নতা ভুলে আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারে

কাকু আকাশের কোন তারাটা ঠিক আমার মা। 

এই অনন্ত প্রশ্নের পাশে এক নধর হরিন

যদি বিপন্নতা শোধনের পন্থা হয়ে ওঠে

আমরাও আশ্চর্য রকম নক্ষত্রবিষারদ 

হয়ে উঠবো। 

চলো আমরা নতুন করে হাডুডু কোট নির্মাণের ক্ষেত্র বানিয়ে মিত্র পক্ষের বাড়িতে পালকি পাঠাতে পারি।

সব বিষন্নতাই আপেক্ষিক সরাইখানা।

তার নথিপত্রে কোন সাক্ষর ছাড়াই মহার্ঘরাত্রি রচিত হয়।

করতোয়া নামে এক নদী

কোন দিন যদি দেখা পাই

তরমুজ ফলনের দেশে

বিলোয় সে যত আসনাই।

আমাদের তেজপাতা দেশে

ভেসে যাওয়া মেঘেদের হাসি

জড়ো করি উপাধি হরেক

সৌখিন কালো আড়বাঁশি।

করতোয়া ভীরু এক মেয়ে

পৃথিবীর আলো করা কোল

মহামারী এপিসেন্টারে

আঁধারেও বাজায় শ্রীখোল।

তার ধ্বনি জেনেছে পলাশ

তার ধ্বনি ভোরের আজান

শুন শুন সব পুর নারী

গুজবে ভাসিওনা কান।

করতোয়া কতটা প্রেমিকা

নীল জলে ধরেছে সে মারী

প্রকৃত নায়ক দেখো রোজ

নৌকা রয়েছে অনাহারী।

কি মোহিনী জানো হে বান্ধবী

না দেখলে দিন তেতো মনে হয়।

সাহস যে খুব বেয়াক্কেলে

উস কিয়ে দাও ওঁচা কিছু ছেলে।

দুহাত ফর্সা কতকাল থাকে

হ য়তো স্বস্তা ভেবেছো আমাকে।

আধুনিকা তবু পুজো করো শিব

তোমার জন্য এক্সিকুটিভ

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

জনাব

কারো কারো অতিরিক্ত হৃদযন্ত্র থেকে স্বভাবী ময়ূর

খুলেআম ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আমাদের নৃত্যশালার পাশে দু’চারটে

 যাযাবর ঘরণী ঘাঘরা থেকে উড়িয়ে দেয় 

সোনালী পায়রা।

আমরা তার হীম ছায়া দেখি।

এই সব ছবি যখন ফাউ আহ্লাদ কক্ষে জমা হচ্ছে

হৃদয়নন্দন টের পেলেন তার শান্ত সমভূমিতে

এতোল বোতল শর্করা মালভূমির উদয় ঘটেছে।

কারো পরামর্শ জুটিলো।

কেহ নীরবতাপূর্বক জানান দিলেন

হোম অ্যসাইলামের জরুরি শর্ত।

ঘরণীকে এসব কথা বলতেই

গরম ওভেনে বাতিল কাপড়ে উষ্ণতা মাখিয়ে

সেক দিতে থাকলে যে সুখানুভূতি তার উপসংহার

পর্বে নিদ্রা উদয় হইলে আমরা অপ্রাকৃত বায়ুচরা।

আমরা পরিসংখ্যান দেখতে দেখতে মটর ভাজা চিবিয়ে স্বপ্নের ঘর নির্মাণ করি।

আজ ভুল করে করমচা ঢুকে পড়েছে

এঁচোড়ের ডালনায়।

কে কোথায় আছো আমাকে দু’ চামচ ঘি জোটাতে পারো।

আজকাল ফাজিল নাতনিটি সাগরেদের মত কহিল  আমাকে কৃষ্ণ গোয়ালার ঘরণী করিও।

উপরিউক্ত পংক্তি সমাহারে এতো ময়ূরের নাচানাচি

 তাহাদের বংশ বৃদ্ধি কিভাবে ঘটানো যায়

ভুন্টিকে জিজ্ঞেস করিলে

প্রতিদিন নিদ্রা কাতরতা টের পাই।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

ভেবো না দায়িত্ববান দৈবচক্র তুমি একা।

ফিনিশীয় জাহাজ থেকে ছুটে আসা সবুজ বাতাস

তোমার নাম জিজ্ঞেস করলে বলো

সারা ধারাবিবরণীটাই তোমার  নাম।

তোমার আগম নিগম থেকে যে প্রেরণাদায়িনী সঙ্গ

দেন তার বায়বীয় চেলি থেকে যে সুগন্ধ নির্গত হয়

তা কি আতা গাছের বাসিন্দা।

এই দেখুন দৈবচক্র আমিও সবেধন নীলমনি একমাত্র আতা গাছেরই মালিক।

সে গাছে না আ ফলে না পাখি ফলে।

কিন্তু বিষয় হলো চারদানা আতা বীজ পুতে

এক দানের কারিগর হতে পারিনি।

এই না পারাটাই যদি ধারাবিররণীর সাথে 

তাৎপর্য সহকারে বর্নণা করতে সক্ষম হতাম

তাহলেও ইলিয়াড়ের প্রেমিকা স্থান ছেড়ে যেত না।

দৈবচক্র তোমার যদি কোন পরামানিক বান্ধব থাকে এই ভগ্ন পাত্রের দিব্বি

আমি তাকে যথাযথ পারিশ্রমিকে ভরিয়ে দেবো।

বিশ্বাস করুন থিয়েটার বান্ধবী কথা দিয়েছে

তার ভাড়া করা পোশাক থেকে পড়ে পাওয়া

হীরের টুকরো প্রণয়কথন তোমাকেই 

উৎসর্গ করবে।

শ ঙ্খ শু ভ্র  পা ত্র

পরিচিতি : জন্ম: ১৮.১০.১৯৬৩, পূর্ব মেদিনীপুরের মহানগর গ্রামে,মাতুলালয়ে ৷পিতা- শ্রীমন্ত পাত্র, মাতা— রানু পাত্র ৷ ছাত্রাবস্থা থেকেই লেখালেখির শুরু ৷ছোটদের প্রিয় পত্রিকা যেমন শুকতারা, সন্দেশ, শিশুমেলা,সুসাথী, নয়ন, আলোর ফুলকি,দুষ্টু, টাপুরটুপুর, চিরসবুজলেখা, এবং প্রথম সারির সাহিত্য পত্রিকা — দেশ, সানন্দা, আনন্দবাজার পত্রিকা,নন্দন, শিলাদিত্য, যুগশঙ্খ, আপনজন, প্রসাদ, তথ্যকেন্দ্র, শব্দপথ, কবিসম্মেলন, কৃত্তিবাসসহ বিভিন্ন লিটিল ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হয় ৷ প্রকাশিত কবিতার বই : সাদা পাতার শোলোক (পত্রলেখা)২০০৫, নিজের ফুলের নামে ( আলো, পূর্ব মেদিনীপুর )২০১২, আত্মার সাক্ষাৎকার (সিগনেট প্রেস / আনন্দ পাবলিশার্স )২০১৭, দেখা হবে, দেখা হলে   

( বোধিসত্ত্ব /বাতায়ন )২০১৮

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

দ্বিতীয় পাঠের পর

আজকাল সবকিছুতেই “জয়ন্ত, জয়ন্ত…” বলে

মতিভ্রম ঘটেছে আমার ৷ ভ্রমণের ইয়ত্তা নেই

তবু সে-অদৃশ্যগোচর 

মতামতে সিদ্ধহস্ত ৷ হস্তরেখা, কবচ-কুণ্ডলী ৷ 

অপারগ হয়ে বলি — ভাগ্যে তোর কিছু নাই ৷ 

যাও,যাও : সেই তো জয়ন্ত… যত নিম্নভূমি                  জলরেখা… সুরম্য প্রাসাদ…

ক্যানভাসে ভ্রমণের ইচ্ছেগুলি ঘুরে-ফিরে ধ্রুব ৷

দ্বিতীয় পাঠের পর জলৌকা, মানে হয় ? স্নায়ুতন্ত্রে

ঘোর উজ্জীবন ৷অথচ কিয়ৎক্ষণ উজ্জয়নী,

পাঠক সমীপে এসে শান্ত হই ৷ সে-এক দুর্দৈব রহস্য—

বন্দিঘরে অনন্ত লগডাউন, তথাপি জয়ন্ত…

দ্বিতীয় পাঠের পর তৃতীয়ভুবন দেখি — করুণশঙ্খে মিশে যায়…

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

শপথ

সেই যে পথের ধারে রানিবেশে শেষবার দেখা !

ভুলে গেলে পুষ্পরাগ — এরই  মধ্যে বেদনানিঝুম ?

ভাবি, এই মধ্যরাতে তোমার কপালে কুমকুম

উদিত সূর্যের মতো — ভোরের প্রথম রূপরেখা ৷

স্বপ্নে এই হয় ৷ জয় অচিরাৎ ৷ চিরাগের আলো

বিরহ মানে না ৷ঘুম, ঘরের ভিতরে ঘুলঘুলি…

নীরবে সাজিয়ে রাখে অন্ধকার, প্রিয় ভুলগুলি ৷

একটি মুহূর্ত কবে মুখ তুলে বলেছিল, ভালো ৷

মনে পড়ে পুষ্পরাগ, রানিবেশ, সে-পথের ধার…

সবই আছে ৷কিন্তু খোলেনি আজও শপথের দ্বার ৷

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

আন্দাজ

সকলই আন্দাজ, প্রিয় ৷ আর কত তির-তিরন্দাজ

অপেক্ষা সইব ? পাতা, মনে-মনে সাজাই অক্ষর ৷

অনুপুঙ্খ উন্মাদনা-সম্পাদনা লক্ষ্য করে আজ

অদৃশ্য বন্ধনটিকে ছিঁড়ে ফেলি নিজের ভিতর ৷

হয়তো সে-কৌতূহল সেতুটিকে গড়ে দেবে ঠিক ৷

একান্ত যৌতুক, তুমি আদিগন্ত কৌতুকের বশে

আমাকে ফেরাবে ৷ লাস্য ৷ অত:পর অদ্ভুত প্রেমিক

অপূর্ব কবিতা হয়ে দেখা দেবে চন্দ্রাহত-দোষে ৷

সকলই আন্দাজ, প্রিয় ৷ কী করে বলবো তাকে ভাণ !

আমাকে ডেকেছে তীর — নদী ওই মাসুদুজ্জামান ৷

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

খুশি, খুশি…

খুশি, খুশি — তুমি যে মুহূর্তে শিখা সহজেই বুঝি ৷

দীর্ঘ অদর্শনে শীতলতা — এই শীত নিয়ে এল খুব ৷

তোমাকে কল্পনা করে কিছু লেখা— সাধ্যাতীত পুঁজি

আমার যে নেই, জানো, বাগিচায় গোলাপের রূপ

শিশিরের মুগ্ধতায় উদ্ভাসিত — কাঁটার প্রণয়…

রৌদ্র জানে, ছায়া জানে — আর সেই শিহরিত হাওয়া

তাপের প্রবাহে আজও উজ্জ্বীবিত — তা ভোলার নয়

শৈত্য-বৈপরিত্য ভুলে, সুরোত্তম—এই চাওয়া-পাওয়া ৷

খুশি, খুশি — আসলে সে-অভিপ্রায়, ব্যথার নিবিড়

দীপের সামনে স্থির — আলোকিত মূক-উচ্চারণ

শিখায় আনত, ওই অন্ধকার, তারাদের ভিড়

ইশারায় ডাকে, ঈশা — স্পর্শাতুর শতভিষা-মন

এখনও হারায় — শৈত্যে, দ্বৈতা-ভাবে, দয়িতা-আঁধারে…

তুমি কি আসবে এই পাতা-ঝরা বৃক্ষটির দ্বারে ?

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

দেয়াঙ

দয়া তো চাইনি ৷ দেয়া… বোঝে সেই অপূর্ব “দেয়াঙ” ৷

শিল্পরূপ… দিগন্ত পেরিয়ে সেই উন্মাদনা ঘোর

ঘরের ভিতরে আজ ৷ তুমি মনে-মনে নদীটির

খেয়া হয়ে ফেরিঘাটে একান্ত নিঝুম — জলতল…

দুঃসময়ে এক-একটি রাত যেন সূর্য-দিঘল…

আসন্ন ভোরের কাছে আমাদের  সমবেত গান ৷

“দেয়াঙ” ফিরিয়ে আনে পাখিদের উল্লসিত ধ্বনি,

অবিকল্প শ্বেত-প্রজাপতি আর পাতার মর্মর…

কতদিন পরে সন্ধি… বন্দিঘরে বিনীত ধেয়ান,

দয়া তো চাইনি ৷ দেয়া… মনে আজ অপূর্ব “দেয়াঙ” ৷

শু ভ ঙ্ক র  দা স

আমি আকাশ বানাবো হাতে

একটু অন্ধকার হলেই অপমান গুটি গুটি পায়ে এসে হৃদয়মাংসে মিশে যেতে চায়

হেঁটে যাবে? এতদূর!পাখিকে দেখো,নিজেকে গোপন কর ডানায়।

কথা দেয়নি,অথচ অপেক্ষা করে আছে,ধোঁয়ায়,ধূলায় আর সূচের অগ্রভাগে

কী এমন দিতে পারো,অন্তরের অনুরাগে!

আঘাত তো ব্যাকরণ জানে না,সমাস-সন্ধি আর প্রত্যয়,জীবনশ্রেণি ধরে বুঝিয়ে দেবে!

কোনো বর্ম নেই,বর্ম তো সেটাই তুমি যতটা মনের মধ্যে নেবে!

দুঃখের আয়নায় যত দাগ আছে,যতখানি অস্বচ্ছ মুখ,মুখোশের সারি,বিগত দিন

এক কাপ অন্তরঙ্গতায়,মিটে যায় বুকের ঋণ!

ভালোবাসায় প্রস্তাবে গাছ লাগাও,জল দাও,সকলকে বলার দরকার নেই,তুমি শিকড় হতে পারো?

শেষ পর্যন্ত নিজের কাছে নিজে ফিরে এসো আরও…

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ 

এক ভুবনের সন্ধানে

যে মূহুর্তে মাটি ছুঁয়েছিলে,মৃত্যু  কোনো একটা ছেদ-যতির ভেতর নিঃশব্দে ঢুকে পড়ে সেই সময়,তুমি শিরোনামহীন,পরিচয়হীন, একা এবং এতটাই পরনির্ভরশীল, যে হাতে নীরব রেখা,পায়ে কয়েকটি সর্ষেফুল আর বুকের ভেতর জন্মঘড়ির ধুকপুকানি 

কী করে জানবে কোথায় পথ শেষ,কোথায় আগুন অপেক্ষায় আর কোথায় ছাই উড়ছে তোমারই অবয়বে!

কে জানে কবে জন্মের জয় হবে?

শুধু জন্মে গেছ,আর কি প্রাপ্তি আছে,শস্য,সাহস, প্রেম বা ঈশ্বরের কাছে?

শেষ শ্বাসটুকু পৃথিবী,এই পৃথিবীর প্রাণ!

মরবে তো নিশ্চিত, তার আগে অনন্ত একজনের কাছে যদি গোটা ভুবন হয়ে উঠতে পারো, তবে তা সহস্র জন্মের সমান!

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ 

স্বাধীনতা

স্বাধীনতা কীরকম দেখতে?কোথায় পাওয়া যায়? মাথায় মাখে না কি ভাত মেখে খাওয়া যায়?

স্বাধীনতা কি লালকেল্লার কেচে ইস্ত্রি করা তিনরঙা কাপড়! না কি কোনো স্বাধীনতা সংগ্রামী ধুলো পড়া পেনসনকাগজের কালসিটে দাগ?

স্বাধীনতার কতদূর শক্তি? হতে পারে কোনো ধর্ষিতার দ্রৌপদীশাড়ি!হতে পারে কোনো মন্দির বা মসজিদের সামনে বসে থাকা বিকালঙ্গ কিশোরের সোনার কাঠি!

স্বাধীনতা মানে কী?

এত সংগ্রামীর বাণী ও ছবি,এত জীবনীর পাতার পর পাতা,এত কুচকাওয়াজ, এত অস্ত্র-সস্ত্রের সমাবেশ!

সূর্যের আগে ওঠা অভুক্ত শিশুটি ছোলামুড়ি খেতে খেতে উড্ডীন পতাকার দিকে দেখে আর সাদা মুড়ি-লাগা ঠোঁটে হেসে ওঠে

তার হাসি একেবারে স্বাধীনতার মতো দেখতে!

দ য়া ম য়  পো দ্দা র

দয়াময় পোদ্দার। জন্ম-১৫ই এপ্রিল, ১৯৮১

গ্রাম-বেলতা,উত্তর ২৪ পরগণা, পিতা-দুলাল পোদ্দার, মা-দিপালী পোদ্দার। প্রকাশিত বই- নতুন আলোর পৃথিবী (গল্প), সামার ক্যাম্পের তাঁবু ও কিছু বর্ণ পরিচয় (কবিতা), অন্ধকার যাপন (কবিতা), যৎসামান্য বালুকণা(কবিতা),

কাকপাখি এবং ঘন্টাধ্বনি (কবিতা), আমতলী ইতি তোমাকে ভুটান থেকে(কবিতা, বাংলাদেশ) 

জলসত্র(কবিতা, অনলাইন বই)।

লেখা প্রকাশিত হয়- দেশ, গৃহশোভা, উনিশ-20, আনন্দবাজার পত্রিকা, নৌকো সাহিত্য পত্রিকা, ইচ্ছেনদী, সাংস্কৃতিক খবর, কবি সম্মেলন, সীমান্তবাংলা, খেয়া৯, দৌড়, শতাব্দীর কোলকাতা, দৃষ্টিকোন, উঠোন সহ ভারত, বাংলাদেশ, নিউইয়র্ক এর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। 

পুরস্কার- ঊষার আলো পত্রিকা থেকে- বিমলেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী স্মৃতি পুরস্কার, 

নৌকো সাহিত্য পত্রিকা থেকে- নৌকো-বকুল স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ইত্যাদি।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ 

স্বপ্নকথা

কাল, রাত্রি মধ্যযামে স্বপ্ন প্রথমবার বেড়াতে এসেছিল। তিনটোকায় দরোজা খুলেছি- পাহাড় এবড়োখেবড়ো এইপথ, 

কোথায় বসতে দেব তাকে? যদিও ঝুঁকে পড়া মাটির ঘর, 

পুরো ঘরটায় একখানা মাত্র হাতলভাঙা নতজানু চেয়ার… 

ঈশান কোনায় রাখা খালি কুঁজো- ভেবেছি ঝড় আসবে, তুফান আসবে

সঙ্গে নিয়ে বজ্র-বিদ্যুৎ। সব কুঁজোয় ভরে রেখে দেব। এখানেতো

দগ্ধ দিন, ধু ধু করে মোহজমি । স্বপ্নকে সেসব কিছুই দেখাবোনা

বলে- জীর্ণ চাদরে ঢেকে রেখেছি। এখন এই রাত্রি মধ্যযামেও

একটা-দুটো বেলাল্লাপনা তারা ফুটে আছে চাদরের ক্ষেতে। 

তাদেরই জন্ম-বৃত্তান্ত, আগুন-ভুখ বেঁচে থাকার পাদদেশে নত;

এতটা পথ হেঁটে আসার ক্ষত এবং বিক্ষতে দুপা যেন পোড়াকাঠ

কোথায় রাখতে দিই, কোথায়? বুক পেতে দিয়েছি, গড়চুমুকে পান করে

মুখ মুছলো, দুইচোখে তৃপ্ত আবেশ। স্বপ্নকে ফিরে যেতে হবে

সূর্যোদয়ের আগে, দরোজা হাট করে দাঁড়িয়ে আছি- নজর

শেষপংক্তিটাও খোঁজে। ঘরের কোনায় খালি কুঁজো… 

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

অমোঘ আগুন

একটা কুয়াশা আস্তরণ ছিঁড়ে ছিঁড়ে জাগে মায়ের স্নেহভেজা উঠোন, 

শিরিষের পাতা চুঁয়ে টুপটাপ দু-একফোঁটা শিশির পড়ে তাতে। 

মা, তখন শাবল আর কাস্তে নিয়ে উঠোনের পূবকোনায় বসে, 

রোগা রোগা হাতে মাটি খোঁড়ে। চিরন্তন এক মগ্নধ্যানে গর্ত খোঁড়া

সম্পূর্ণ হলে-  রোদে শুকায় একদিন। সারাদিন সে উঠোনে হাওয়ারা

খেলে এলোমেলো। সন্ধ্যায় ধান কাটা মাঠে যাত্রাপালার আসর বসে। 

মাইকের মীরার বঁধুয়া অশ্রুজল, তানপুরার টুং-টাং গুলো

খেজুর গাছের কলুপ বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা ভাঁড়ে জমা পড়ে। 

ঝুরো মাটিতে জল মিশিয়ে এঁটোলে কাদা-যেন মিলেমিশে থাকি, 

গর্তটি ঘিরে তিনটি ঝিঁক আমাদের ত্রিকাল। অমোঘ সেই উনুনের

নরম আগুনে হাঁড়ি চড়ে। আমনের চাল, নতুন চন্দ্রমুখী আলু, 

মাকড়া বেগুন, কাঁচালঙ্কা সেদ্ধ। ফ্যান ফ্যান ভাত বেড়ে দেয়

সকালের থালায়; আমরা খেয়েছি–আমাদের সহজ জীবন! 

আজ, এই শীতে সেই উঠোনে ফিরতে চেয়ে কুয়াশার জাল

ছিঁড়তে চাইছি। হাত কেটে বিদির্ণ রক্ত চুঁয়ে পড়ছে শুধু… 

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

নমামি ব্রহ্মপুত্র 

এইযে দেখছো- জলে ভাসমান আমার জীবন 

চিকচিকে আলোর ঢেউ মেখে- তুমি নৌকো হয়ে ওঠো 

আগল খুলে– ভাসি নিরুদ্দেশে… 

আমারতো ফেরার কোন জায়গা নেই 

এই নদীঘাট, জানালার জংধরা শিক 

তোমার রঙচটা শাড়ি রোদে মেলা, 

নদীর ঢেউ লাগে শাড়ির খোলে… 

আমারতো ফেরার কোন জায়গা নেই 

লালিত এই সভ্যতায় তুমি-ই খিদে 

তুমি-ই তৃষ্ণা আমার আদরের নৌকো 

ধুয়ে-মুছে সন্ধ্যা-প্রদীপ জ্বালাই 

আরতিতে আমার পৌরুষ মেশে 

সু-দীঘল যুবতী শরীরে… 

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ লিলিথের আমি ও লিলিথ

[ So god created man in his own image in the image of god created him; Male and female created he them.] 

Book of jenesis- 1:27

প্রেক্ষাপট তৈরি ছিলো- অথ ভুখ, তথা

মাটি দেহ নিমঘুমে- আপেল তলায়, 

ঝুরোঝুরো ভাঙছিলো এই বৃত্তকলা

চুলে আউলা-ঝাউলা, বিষাদ জামায়! 

ফোন বেজেছে গহন ছেঁড়া মনভূমি

স্পর্শ- খিদের অসুখ নিয়ে সাঁকোপাড়ে;

জানলা পাশে হলুদ জামা মগ্ন তুমি

উতলবুকে চশমা মুছে অপেক্ষাতে! 

ছোট চুলের উদাস টেনে ঢেউ তোলা

দুকুল ছেপে শরীর তোমার প্রবাসী

‘প্রিয়’ বলে কাদামাটি দুইহাতে মাখা

নিঃশ্বাসে উতল তুমি চুম্বন-পিয়াসী! 

প্রভু জানে- বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়েছো 

হাওয়ায়-জলে মাখামাখি একসাথে;

তুমি এসে এভাবেই সামনে দাঁড়াও

মনটা ছিলো দিখন্ডিত এক আপেলে…

ঝি ল ম  ত্রি বে দী

পরিচিতি : জন্ম ১৯৮৪ সালের পৌষমাসে। “দর্শন” নিয়ে পড়াশোনা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। লেখায় প্রবেশ বেশ পরে, ২৭/২৮ বছর বয়সে। অনুভূতির গভীরে তাঁর লেখার শিকড়। তাঁর কবিতার প্রতিটি চরণ আমাদের সকলকে আয়নার সামনে দাঁড় করায়। বিষয় বৈচিত্রে, ভাষার প্রয়োগে, শব্দের ব্যবহারে ঋদ্ধ তাঁর লেখা পাঠ করা, এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তাঁর লেখনী একাধারে যেমন চাবুকের মত উদ্ধত, তেমনই আবার ভালোবাসার মত কোমল। কবিতার পাশাপাশি চলছে গদ্য ও নাটক লেখা-ও। ২০১৫ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ “নিরুদ্দেশ সম্পর্কিত ঘোষণা”-র প্রকাশ। ২০২০-র বইমেলায় দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ “বৃষ্টি পড়া বাড়ি” প্রকাশিত হয়, প্রতিভাস প্রকাশনা থেকে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখে চলেছেন। “দেশ” অনলাইন পত্রিকায় “নির্বাচিত কবি”-র সম্মান প্রাপ্তি। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে, আমন্ত্রিত কবি হিসেবে, ৪র্থ বাংলা কবিতা উৎসবে অংশগ্রহণ।

লিখতেই হয় তাঁকে ঈশ্বরের অদৃশ্য নির্দেশের মত।

লিখে যাবেন, যতদিন তিনি লিখতে বলবেন।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

কবি

ছিঁড়ে গেছে। সেলাই খুলে গেছে। তাকে ডাকেনি কেন কেউ? এই অসফল অবেলায়, পড়ে আছে অতল। পড়ে থাকে অতল কালো জলে। রোজ পড়ে থাকে। রোজ। রোজ‍। তাকে ডাকে না কেউ, তবু তার অভ্যাস গেল না— ভাবে, ‘যদি… যদি কোনদিন সত্যিই ডাকে কেউ!’

বিকেলের পরে তন্দ্রা নামে ঘরেদোরে। সন্ধের বাতি। শাঁখ। মনে হয় উলু দিচ্ছে কেউ। খই ঢালছে সে সমুদ্রের স্রোতে। তারপর সব ভেসে গেল। চাঁদ ভেঙে ছড়িয়ে পড়ল ঘরময়। টুকরো টুকরো আলো, এ আলো তোমার মতন নয়। বাঁশবন থেকে যেই হাওয়া ওঠে— শৃঙ্গার করে ওঠে পাতায় পাতায়— এই সেই আলো…….

মুখে পানপাতা দিয়ে কে যেন আকাশের ‘পরে শুয়ে থাকে

শূন্য শূন্য হাত, শূন্য মধুরতা, সমস্ত শূন্য মনে হয় তার তার

একেই কি বলে পরিহার— দূ-র সেই নারীর খিদের মত যেন

খিদে পায়, অথচ খায় না— তাকে খায়! কুটিকুটি করে খায়

দাঁত বসায় অধর আকুলতায়! তাকে খায়, তাকে খায়, খায়

পশুর মতন সন্ধে, বিপরীতে বসে থাকে অযচ্ছল অসচ্ছল

তার বুকে সর্ষের দানা নেই— শুধু কাচ, জ্বলন্ত কাচ আছে

কাচে কেটে ফালাফালা হলে সন্তাপ— কে এসে বসে কাছে

হাত রাখে, শিরায় শিরায় হাত বুলোয়, মাথা টেনে নেয় বুকে

বলে— বলে না তো কথা! নিবিড় ব্যথার তীরে নিয়ে যায় সে……….

তাকে ডাকে না তো কেউ। তবু তার শুনতে পায় চোখ। তবু তার কান, দেখতে পায় ক্রোধ। বিমর্ষ ক্রোধ। অকরুণ ক্রোধাগ্নির জল! ঠোঁটে আঙুল ঠেকায় রাত্রি। আর কোন তরঙ্গ শেখার নেই বাকি! মৃদু মনে উঠে বসে সে— জামা পরে। কপালের ঘাম মোছে না। বাসি মুখ। বাসি সংসারের খই ছড়ানো থাকল তবে…

‘আমি আসি। আজ তার ডাক শুনেছি! কবিতা ডাকছে আমাকে…………………’

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

পাড়া

চারপাশ খুব স্তব্ধ চারপাশ একেবারে আষাঢ়

তাপসকাকুর ঘরে অর্থহীন কথা হয় ক’টি

তার কুচি ভেসে আসে তরঙ্গে আজ পূর্ণিমায়

গুরুদ্বোয়ারার গালে তেঁতুলগাছের রেশ লাগে

মানুষের মধ্যে বড় বেড়ে উঠছে চালে-ডালে রাত

আলুভাজা ঈশ্বর ওয়াহেগুরু ধর্ম উড়ে বেড়ায়

কারা খুব একা বাঁচে শিশুর বিরহ বুকে নিয়ে

জানলা মধুর নয়, আরক্ত বেদনা এসে বসে

“ওখানে যাও না হাওয়া! দেখে এসো ওদের হাসিগুলি…”

মেঝেতে ছড়িয়ে মন সেলাই করছে মনোতলি

চারপাশ সঙ্গিহীন চারপাশ উনুনের শিখা

তাপসকাকুর গৃহে ভরে ওঠে মানবজমিন…

বি কা শ  চ ন্দ

কবি পরিচিতি: জন্ম ১লা এপ্রিল ১৯৫৫ জন্মস্থান, খেজুরী থানা, কামারদা। এখন “মানসভূমি”, কাঁথি, কুমারপুর, পূর্ব মেদিনীপুর। সূচক ৭২১৪০১, মোবাইল ৯৪৭৪৫৯৯৭৭৪ পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত। ভারত। 

প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থ  ঃ—-

১. বীজে অঙ্কুরে বিনষ্ট শিকড়ে (২০০৭) ২.বর্ণ বিহীন বর্ণ বিকাশ (২০১৬)

৩. ঋতু বদলের ছবি (২০১৭)  ৪. আকাশ গঙ্গায় নক্ষত্র ভেলা (২০১৭)

৫. বিষণ্ণ দ্রোহকাল (২০১৮) ৬.শূন্য শরীরে স্থপতির হাত (২০১৮)

৭. সাদা ফুলের কফিন(২০২০) ৮. অনুচ্চারিত শব্দের কোলাহল( লকডাউনে আটকে)।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ 

প্রণয় পুরুষ 

ফুটি ফাটা মাঠের ফাটলে কান পাতলে শোনা যাবে

অঙ্কুরের অস্ফুট হাহাকার, শুনেছো কি কখনও? 

এ মাঠের প্রান্তে হঠাৎ বাজ পড়ে পুড়ে গেল চাষী চাষীবৌ—

মাটির ফাটলের শিরায় শিরায় নির্বেদ ইতিকথা,

জীবনের সাথে এত প্রাণজ সম্মিলন জানে মাটি শস্য—

কতক মানুষের কাছে কত কোটি মানুষ মেনেছে দাসত্ব, 

জলের তর্পণে আজো ভেজে ঝলসানো জীবনের গদ্য। 

চেনা চোখের আরাধনায় কেটেছে বহুকাল মমতায়

হঠাৎই সে চোখে নীল আলোর কসরত, 

কোনও দিন দেখা হলে আবার পথের সাথী হবে

দু’জনেই প্রোথিত হবো বটের ঝুরির মতো কোথাও, 

গহ্বরে অনন্ত রাত আঁচলে বাকলে অমৃত কলসি ভাঙ্গো

মাটির অন্তরে বাইরে পাশাপাশি অনাবিল জীবন বাঁধন। 

এইতো কিছুকাল আগেও সমুদ্র সংসার ফেলে গেছে বালু দহে

পাশের বালিয়াড়ি ভাঙ্গা বাতি ঘর অক্ষত একটি মন্দির চূড়া, 

আসলে আমরাতো শরীর বুঝি অক্ষত রাত রানী ফুল

কেবলই তো নমনীয় দু’টি ফুল জানে স্তন্যপায়ী সকল জীবন। 

প্রতিদিন সামুদ্রিক লোনা হাওয়া ভেসে যায় তৃষ্ণা সুখ—

একাকী কাঁদে গাংচিল জানে একাকী থাকেনা কোন প্রণয় পুরুষ। 

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

নিজস্ব রক্ত ফসল  

কোন একটা সময়তো ছিল যখন পৃথিবীর ঝর্ণা ভিজিয়েছে

আর সকল শুকনো পরিসর জানে রাত জাগা নদী নারী সব, 

সমস্ত চাঁদের আলো আবেশ মেখেছে রেখেছে কলঙ্ক কালো—

এখন তো হাহাকার নিশ্চিত জীবন আর সুস্থ বাসস্থান, 

হয়তো বা গ্রহান্তর  নেমেছে শরীরহীন গ্রাম শহর জলে জঙ্গলে

সমস্ত ঝড়ের ব্যাকুলতা ভেঙে শূন্য বুকে পাখিরা ডেকেছে সুখে। 

 ক’দিন আগেই দিনের অন্ধকারে সূর্যের গ্রহণ বিলাপ, 

পঞ্চ ইন্দ্রিয় জানে প্রতিপলে দিনে রাস রঙ্গ নৌকা বিলাস

কাল গর্ভ খুলেছে অচেনা মুখ খেলেছে আনন্দ দ্যোতনা। 

রাঙ্গা রোদে ক্রোধ ধ্বস্ত লাল অবরোধ বদল হয়নি রক্ত ধারা

অন্নদাতা অন্নদাত্রী ঢেলে যায় কেন উদার অঞ্জলি—-

আবারও খোঁজে মাছের চোখ মুখের আড়ালে ক্রোধ। 

পৃথিবীর অনাবিল স্বর শোনে নদী নালা সমুদ্র শিরা উপশিরা, 

একই বেলাভূমি ঘিরে আছে মুখর স্মিত হাসি ভেজা দু’টি ঠোঁট,

পারলে ভাঙ্গো ভূস্বর্গের দু’টো প্রাণোচ্ছল জীবন্ত আখরোট—

বাসনা বিলাসে চোখে চোখ নিরুচ্চারে চলকে আদিম স্রোত। 

মেঘের গর্ভজাত উন্মত্ত আলোর স্মৃতি নাচে ময়ূরের মতো—

ভেঙে গেছে নিষেধের বিপন্নতা অন্ধকার আঁতুড় গহ্বরে আলো,        

সংসারের বিস্তৃত সীমানায় কোথাও না কোথাও নরম আগুন জল—

অজস্র অপ্রাপ্তির ভেতরেও বুকে ধরে নিজস্ব রক্ত ফসল। 

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

জঠর

কেমন একটা বিকৃত মননে আমাদের দেশ জেগে

কেউ কাউকে জমি দেয় না এক ইঞ্চিও ছেড়ে, 

শকুনির কি দায় ছিলো মহাভারতে  চৌকস পাশা খেলা। 

বর্ণচোরা সারা পৃথিবীর মানচিত্রে এখনো প্রতিদিন

দ্রৌপদীর অন্য নামে অঙ্গাভরণ খোলা—

এ ওকে ঠেকিয়ে রাখে বোকা বানায়

চিনে পটকার দোদমা মশলায়। 

কজন বাঁচলো কজন মরলো জানে বিশেষজ্ঞ গণক, 

মুখের আড়ালে মুখ রাতের দিনের আলো গাছের সবুজে

সমুদ্র প্রতিদিন পা ধুয়ে দেয় বাতিঘরে ঢেউ চমকায় আলোয়

না হাত তালি কিংবা থালি বাজানোর অধ্যায়, 

অরক্ষিত সীমান্ত খুঁজে নেয় জীবনের বাজী ধরে স্পর্ধায়

পুরাতন বাগানে নতুন ফুল ফুটলেই হা হা হেসে ওঠে উত্তুরে হাওয়া। 

দেশের মাটি জলবায়ু চেনে বলেই প্রকৃতি জানে জন্মভূমি     

জন্ম দেশের প্রাণবন্ত প্রকৃতি পুরুষ ও জানে মানুষ প্রাণী জল, 

মাটি গর্ভ সেতো মাতৃগর্ভ সেখানে দুর্জন থাবা—

দীর্ঘ গাছেদের নাভিশ্বাস শোনার দায় নেই নির্বাক ক্রন্দন

পাশা খেলার গতি জানতো কৌরব পাণ্ডব পারিষদ—

কতটা নিজের থাকবে নিজের বসতি নিজের মাতৃ জঠর।

ল ক্ষী কা ন্ত  ম ন্ড ল

পরিচিতি : লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল। জন্ম-  ১৯৬৯ সালের জুন মাস। বাবা – গোরাচাঁদ মণ্ডল ,

মা – গীতা রাণী মণ্ডল। পেশা –  প্রাথমিক শিক্ষক

গ্রাম – বরদা, ডাক – মোহাড়, জেলা – পশ্চিম মেদিনীপুর, পিন- ৭২১১৬১  ; কবিতা মানে জন্ম , কবিতা মানে প্রেম , কবিতা মানে জীবন ,  কবিতা মানে মৃত্যু , এররকম বলা যেতেই পারে । সেকারনে জীবন , জীবিকা ও মানবিকতার একটি পূর্ণ অবয়ব হল কবিতা । কোন অবসর নয়,  কোন সময় কাটানো নয় ,  তার জন্য চাই একাগ্রতা , ধ্যান । তখনই নীরব মননে বেজে ওঠে মন্ত্র , সুর ।  শিহরিত ইন্দ্রিয়ের অঙ্গ উপাঙ্গ । এর নামই মগ্নতা। এর মাঝেই হেঁটে চলেছেন আমার দাদু ঠাকুমা  – সেই বৃক্ষের ছায়ায়  বিস্তারিত কবিতা ।

কবিতার বইগুলি-

হঠাৎ হঠাৎই – ১৯৯৮  ;  মানুষের নদী – ২০০০  ; খরানদীর বৃষ্টি সম্ভব – ২০১০ ; সজনেফুল ও নিঃশর্ত সমর্পণ  – ২০১১  ; আঁধারের পাঁজর – ২০১২  ; কালো নৌকার তৃষ্ণা – ২০১৩  ; তিলক জন্মের ছায়া – ২০১৫ ; হরিত প্রাণের কম্পাঙ্ক  – ২০১৮  ; জাম রঙের পুরুষ  – ২০১৯

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

অনাত্মীয় নীল সন্ধ্যা 

নীল সন্ধ্যার আকাশে  নৌকাটি পাল তুলে ভেসে যায়   – সন্ধান করে গাঙচিলের বিষাদ । বাতাসের উম্মাদকাল  ভেদ করে দিগন্ত নেশায় এগিয়ে যায়   – রংবেরঙের কৃতকর্মের ফল খুঁজে মৃত্যুর পোশাক , কত গভীর এই  বৈশাখের বিকেল আর উষ্ণ স্বর – এই নৌকার মাঝি আমিই ।  সজোরে হাল ধরে থাকি     –  ভিজে যায় পেশির ভাঁজ দিয়ে যতসব অমাবস্যার মরা কোটাল ভরা কোটাল । 

দৃশ্যের ভিতর হেঁটে যায় একান্ত দহন,  কিছু জলের খবর ছড়িয়ে থাকে তৃষ্ণায় ।  এমনকি ঘোলাজলের  মেঘে যারা নাভি ছুঁয়ে জোয়ার আনতে চায় – তাদের দিকেই সকল প্রার্থনা ।  জানে না কেউ হেমন্তমেঘের কাছে   তারাই কেবল ছায়া বিক্রি করে  – 

আমি বিপন্ন স্রোতের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে  টুকরো করি শরীর  –  সেখানে ওই নেমে আসে  রাতের  অস্ত্রোপচার 

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ অনিশিক্ত 

নির্দিষ্ট কোন সন্ধ্যা নেই  – তারা মিলিত হতে থাকে বর্তমানে কিংবা পরবর্তীকালের কোন সাঁকো পেরিয়ে   –   ফোঁস ফোঁস করে মুখের ভিতরে  সাপ  – এখানে মাতাল অঢেল , তারা নীল দুপুরের কোরাসে শৈশব ভুলে গিয়ে হাতে নেয় নলখাগড়া  – যার পথ মিশে গেছে সমুদ্রের দিকে  – 

যেহেতু মাতাল হবার কোন বিধিনিষেধ নেই – কিংবা বলা যেতে পারে  – মাতাল হওয়ার জন্য ট্যাক্স নিচ্ছে সরকার  – সুতরাং শ্যামা সঙ্গীতের নামে তারা খুলতেই পারে জামা প্যান্ট অন্তর্বাস  –  এই ভাবে ইহুদিদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া পানশালাগুলি   পিচ রাস্তার ধারে ধারে জড়িয়ে ধরে সব বয়স । বকাটেদের তাড়নায় একটা একটা পরিচিত নয়ানজুলি  গোপন করে রক্ত কফ ও বীর্য  – আর অনিশিক্ত ডিম্বাণুর জন্য ফুটে থাকে রোগা রোগা শাপলা          

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ আস্তিক 

যে কোন রিপুই সুযোগ পেলে চুমু দেয় গাছের মাথায় ,  তখন চাঁদ কাঁপতে থাকে থরথর । গোপন ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে টান মেরে সরিয়ে দেয় বিছানার চাদর । নীরবতা পালনের পাখিরা নদীর আকাশে পাখনা মেলে ,   তারপর  শুধু ক্ষতমুখ  –    স্তনিত পালকে  ঢাকতে ঢাকতে ফিরে যায় মাটির বুকে  –  

আমি সেই মাটির কাছেই বসে থাকি নিজস্ব বিভায়  –  আস্তিক অন্ধকারে ক্রমশ জ্বেলে যাই   উই খাওয়া বাঁশির ছিদ্রপথ  – আমার মুখের ভাঁজ থেকে আশাহত সব কালো কাপড়ে ঢাকা বাইকগুলো   ফিরে যায় মেট্রোর ধর্ণায়  – 

নিজেকে মেরে ফেলবার পূর্বেই  আবারও সেই অনন্তের কাছে হাঁটু গাড়ি  – আমার বুক চোখ কপাল নাও  – আমাকে  ভুলো না  সৃজন

প ঙ্ক জ  কু মা র  ব ড়া ল

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

চতুর্ভূজ

১৷

প্রতিটি চিৎকার

আসলেই একান্ত নির্জন,

যেন মাটি ছোঁবার আশায়

লোহাবীজ উড়ছে কোথাও৷

২৷

হসন্ত চিহ্নের মতো 

থমকে আছে পথ,

বিসর্গ ধুলো উড়িতেছে..

দূরে কার চলাচল 

               শূন্য বাজিছে ৷

৩৷

ধূ-ধূ মাঠ

আল গোখরো জাগে৷

অনুজ্জ্বল নক্ষত্র, 

তাহার ইশারায়-

বিন্দু বিন্দু ছড়িয়ে যাচ্ছে,

                                 শ্যাম..

মুখাগ্নি করার পর 

যে হাওয়া পুড়িয়া যায় প্রকৃত উত্তাপে,

তাহাকেও জল দাও৷

তৃষ্ণার্ত রেখো না কলসীকে৷

রা জে শ্ব রী  ষ ড়ং গী 

অবিভক্ত মেদিনীপুরের রোহিনী  গ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বিবাহসূত্রে  মেদিনীপুর  শহরের বাসিন্দা। বিদাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে বাংলা ভাষা- সাহিত্যে  স্নাতকোত্তর। 

কবিতার বই- ‘ গোলাপি পোস্ট অফিস থেকে লেখা’ ২০১৮, প্রকাশক- ‘যাপনচিত্র’। 

ও  ‘ রজনীগন্ধা অসুখ’২০১৯, প্রকাশক- ‘ হাওয়াকল’।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

রুদ্রাক্ষপাখি 

অন্ধ আশ্বিনের রাতে নিস্তব্ধ হিম প’ড়ে 

রক্তাভ আগুন লেগেছে সারা গায়

এখনো হাজার নীল আমাদের শরীরে এসে বসে

তার ছায়াকুন্তলে মুখ রাখি

অর্ধধোয়া বালির বসতি

শোনো,  স্রোত থেকে স্রোতে ভেসে গেছে আলো

সারাটা রাত্রি ভরে গেছে অন্ধকার জলে   

তবু এই অন্ধ আশ্বিনের রাতে

মাংসের কণা ছিঁড়ে উড়ে যাক

এক একটি রুদ্রাক্ষপাখি। 

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

চিহ্ন

বাগানে পালক খুঁজি, ফেলে আসা গান।

বিরহ আগল ভাঙো গৃহের দেবতা

ভাঙো এ দৈবজন্ম-

পল্লবের দাগ। 

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ নিস্তব্ধ

একদিন আমাদের সব চোখ অন্ধকারে জেগে উঠবে সাপের মণিতে।

এতো আলো চারিদিকে, নক্ষত্র নিমজ্জিত

জন্ম থেকেই আমি অগ্নিভুক

জন্ম থেকেই আমি সমুদ্র উন্মাদ-

আরো নেমে যাই অপেক্ষা গভীরে  

বিষন্নতা শব্দের ভেতর টুপ টুপ কুয়াশা ঝরে

সারা রাত-

ঘুমের দরজা ভেঙে উঠে আসে অসমবর্ণ নিদ্রা

দূরে- নিস্তব্ধ প্রহর জুড়ে  দ্রিদিম্ দ্রিদিম্ 

বেজে উঠছে মাদলের লিপি।

দী প  শে খ র  চ ক্র ব র্তী

পরিচিতি : জন্ম বৈশাখের প্রথম দিন,শহরতলি।কর্ম,জন্ম ও মৃত্যু মাঝের সরলরেখাটিকে নিয়ে নিরন্তর বিপজ্জনক সব খেলা।স্বপ্ন,দিবা।গোত্র,পলায়নপর।

প্রিয় রঙ গাঢ় নীল।প্রিয় ঋতু শীত ও নারীর বুকের গন্ধ।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

অসাড়তা ,তুমি এক বিভ্রম

১.

তুমি কেউ নও।এই মিথ্যে প্রশংসার মধ্যে আরও বেশি প্রসারিত হচ্ছে তোমার অপমানপ্রিয়তা।নিজেকে বহন করার ক্লান্তি আছে,নিজেকে শোষণ করার ভেতর আছে সুখ।তোমার চামড়ার ভেতরে আছে এক অন্ধকার সূর্য।তুমি জেনেছিল এই পৃথিবীর সমস্তই সূর্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।তুমি সৌভাগ্যবান কারণ প্রেতেদের গান তুমি শুনতে পেরেছিলে।তুমি শিখতে পেরেছিলে বিষধরদের সাথে কথা বলার ভাষা।কেউ তোমাকে ডাকতে আসেনি নির্বাসন বিন্দু থেকে,একান্তই সৌভাগ্যবান তুমি।তুমি জানো একেকদিন সবথেকে সুখের দিন হল নিজের উন্মাদনার মুখোমুখি,নিজের প্রেতের মুখোমুখি,নিজের তরল বিষের মুখোমুখি।সেদিন কোন খ্যাতি নয়।সেদিন কোন নারীর ভালোবাসা কিছুই নয়।

সেদিন তুমি প্রকৃত প্রেমিক যেদিন মৃত্যুর ওপার থেকে জানতে পারবে এই উন্মাদ পৃথিবীর কি হল অবশেষে।

ততদিন কেউ নও তুমি।

.

আমি কখনই নিজস্ব উন্মাদনার প্রতি বিশ্বাসঘাতক হতে পারব না।আমার সুমিষ্ট উদ্দেশ্যহীন মন,মেয়েদের বিষয়ে আমার অপরিসীম আগ্রহ এবং মাঝে মাঝে একসঙ্গে অনেকজনের প্রতি।অথচ কোনকিছুই নিজস্ব নয় আমার শুধু এই বিশাল আত্মাটি ছাড়া যা পরিপূর্ণ হয় বিষাদে। আরও গভীর অবধি আমি কেবল অতল অনুভব করি।সেইসব স্বপ্ন বিন্দুমাত্র ভালো লাগেনা আমার যেখানে মৃত্যুভয় নেই,একটি ধারালো ছুরি আমার বুকে গেঁথে দিচ্ছেনা অলৌকিক হত্যাকারী দৈত্য।

মাঝে মাঝে এই শরীরের ভেতরে কেউ আলো নিভিয়ে দেয়,আমি ভৌতিক গলা শুনতে পাই,নানারকম মুখ দেখি।

ড্রয়ার খুলে কেবল খুঁজে পাই পুরনো প্রেসক্রিপশন,মাঝে মাঝে একটা জানলা যা অর্ধেক মৃত।

আমি ভয় পাই এমন একটা সোজা রাস্তা যার দুদিকে কোথাও নেমে যাওয়া যায়না অথবা একটা পশুও চলে আসে না গাড়ির সামনে।

আমি জানি সবকিছুই ধ্বংসে ভরে যাবে শুধুমাত্র কিছু মানুষ শেষ অবধি গিয়ে খুঁজে পাবে নৈঃশব্দ

নিঃশব্দ একটি মৃত্যুর মতো নীল আলখাল্লা যা আমি পড়েছিলাম উন্মাদনার দিনগুলোতে,আমি দেখাচ্ছিলাম পাখির খেলা।আমার পোষা হিংস্র বেড়ালটি বারবার ছুটে যাচ্ছিল তাকে টেনে মাটিতে নামিয়ে আনতে।

এই দৃশ্যে গভীর থেকে গভীরতর অস্তিত্বের ভেতর আমি সুখী।

.

অসাড়তা, তুমি এক বিভ্রম।আজব জগতের ক্ষুধার্ত প্রাণীর দুটি চোখ।খুব যন্ত্রণাময় তাই না?

                     উন্মাদ।বিভ্রান্ত।বিমর্ষ।

আমি নির্বাসনের মাঝে সুখী।।।।আমি অজ্ঞতার মাঝে কি অদ্ভুত সুখী ।।।। বৃত্ত- খুলে গিয়ে একটা সরলরেখা,আজ রাতে আমার পুরুষাঙ্গ মুক্ত ঘোড়ার মতো বনবাদার পার হবে

                পড়ে যায়। পড়ে যায়। পড়ে যায়

সমস্ত ছদ্ম বিনয়ের থেকে একটি অলৌকিক প্রেমিক

                 যে মৃত্যুর পর প্রকৃত জেগে ওঠে।

                            তার একটি দর্শন

                        তার একটি হাতের মুদ্রা

একজন খুনী যে কখনও প্রমাণ লোপাট করতে পারেনি এবং একজন প্রেমিক যে কখনও সরাসরি যৌনতার কথা বলতে পারেনি তারা সকলেই জানে

প্রকৃত প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই এই মহাকাল তাদের খেয়ে নেবে।

.

সহস্রবার যন্ত্রণা দিয়েছে,মৃত্যু দিয়েছে তবু তুমি আছো।কারণ সর্বদাই নিজের থেকে কম বেশি সুন্দর অথবা কুৎসিত তুমি।মহাসুখের সিংহাসন যত উঁচুতে বাঁধুক ওরা তবু  আকাশ ও মানুষের মাঝে দুরত্ব কখনও কমে না।

একটা নির্ভার শুন্যতা কতটা তোমাকে প্রবল করে তোলে।

একটা ছায়ার মুগ্ধতা থেকে প্রতি রাতে নিয়মমাফিক আত্মরতি সবেতে তুমি নিজের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে চাও অলৌকিক গানটি। কি ভীষণ দুলে উঠছে তোমার শরীর।তুমি,এই তুমি একটা বিরাট ভিড়ে ঠাসা ঘরকে অনায়াসে করে ফেলতে পারো নির্জন।আমি দেখেছি তোমার থেকেও মহৎ মানুষেরা যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছে,নেশায় আচ্ছন্ন হচ্ছে,লাফ দিয়ে পড়ছে তবু একফোঁটা রক্ত বেরোচ্ছে না।তাদের হাড়ের ওপর মাংস,আরেক খণ্ড মাংসের বুক টিপে দিচ্ছে,হ্যাঁ এসবও আমি দেখেছি।

মগ্নতার নদী প্রবাহিত হচ্ছে অথচ তুমি জানো একজন খুনী তোমার জন্য এই শহরের বুকে অপেক্ষা করছে।একটি খুন যা বিখ্যাত হতে পারে,কেবল তার লোভে তুমি নিজেকে বারবার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবো।

কেউ মনে রাখবে না তোমাকে যদি না তুমি একটি প্রেতকে ফিরিয়ে আনতে পারো মৃত্যুর নির্বাসন থেকে।

তারপর সেই ঘর তোমারই।

.

একটি সহজ কৃষ্ণগহ্বর ছাড়া আমি কিছুই নই।আলো পান করি।ঈশ্বর ও সততা দুইই জ্বলছে এবং সেই চিতা থেকে প্রাপ্ত ছাই হল সময়ের ধারণা।আমি ভাবি আমি আশ্চর্য গোধূলি ভালোবাসি আমি।বিপন্নতার সুমিষ্ট গানটি আসলে আমার চামড়ার ভেতরে রয়েছে।আমি ভেঙে পড়া জাহাজটি বহন করতে করতে ক্লান্ত ।তার ভেঙে যাওয়া অনিবার্য ছিল কারণ সেটি কোথাও যাচ্ছিল না।

স্তব্ধতা আমাদের সবথেকে বড় শক্তি

আমি এখন থেকে প্রয়োগ করবো আমার ভয়

এমন ডানা যা প্রবল ক্ষতস্থান থেকে বেরিয়ে এসেছে

আমার এই শূন্যতার মধ্যে লাফিয়ে নির্ভার হও,নইলে কখনও জানবে না তুমি –

তোমাকে হত্যা করা হবে ধীরে ধীরে

বদলে তোমাকেও ক্রমাগত হত্যা করে যেতে হবে

এটিই যন্ত্রণা।এটিই প্রকৃত শান্তি।শাশ্বত সত্য।

শান্তি – শান্তি – শান্তি।

প্র বী র  ম জু ম দা র

পরিচিতি : ২০১২ থেকে সম্ভবত লিখি।নবদ্বীপের ছোট ছোট কিছু কাগজে তখন খুব লিখতাম। সে বিকাশ বসু’র “শব্দশৈলী ” ই হোক বা অন্যকিছু।যতদূর মনে পড়ে শুভদীপ মাইতি’র “ব্যতিরেক” এ লিখেছিলাম একবার।সাল মনে নেই। তবে কিছুকাল পর কবি, গদ্যকার সৈকত মুখোপাধ্যায়, কবি শ্যামল দেবনাথ,কবি ও গদ্যকার প্রণব চক্রবর্তী এবং বনানী দাসের সংস্পর্শে আসার পর মনে হল এতকাল শুধুই ভুলভাল লিখে গেছি।তাই সেই সময়ের সব লেখাই ফেলে দিলাম।নতুন করে আবার লেখা শুরু ।২০১৭ এ “দৌড়” পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ হল।এরপর সুজল সাহা সম্পাদিত “তমসা”, কবি অমিতাভ দাস সম্পাদিত ” অবগুণ্ঠন “,কবি গৌতম সাহা সম্পাদিত ” ফিনিক্স”,কবি প্রণব চক্রবর্তী সম্পাদিত “ইন্টার‍্যাকশন”, কবি তাপস রায় সম্পাদিত “সুইনহোস্ট্রিট”,কবি সুব্রত চক্রবর্তী সম্পাদিত ” খেয়া” তে কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে।মনে পড়ে একবার রাজা পোদ্দারের “খোয়াবনামা” য় কবিতা লিখে কিছু সাম্মানিক ও পেয়েছিলাম। অবশেষে ২০১৯ এর ডিসেম্বরে মানিক সেন আর রাতুল মন্ডলের “পাঞ্চজন্য” থেকে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতার বই “মৃদঙ্গ মনে বনে”।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

দ্বীপ

এমন দুপুরে 

বুকের খুব কাছেই কেউ

হারানো গানের মতো বেজে ওঠে।

  ডুবতে

          ডুবতে

                  ডুবতে

দূরে সমুদ্রের মাঝখানে ভেসে ওঠে

চিরসবুজ দ্বীপ।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ লেবুফুল

বাড়ির পিছনের লেবুগাছের 

কাছাকাছি গেলে

মন কেমন করে।

যেন তার ভিতর থেকে

কেঁদে ওঠে কেউ

বলে–শোন, শুনতে পাও আমাকে!

আমি বেশ বুঝি

আবার ফিরে এসেছেন তিনি

আর মাথার উপর ঝরে যায় লেবুফুল

টুপ

টুপ।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

আলো 

কোনদিন হঠাৎ ই মাঝরাতে

ঘুম ভেঙে গেলে

চুপিচুপি এ ঘরে এসো।

কয়েক মুহুর্ত পর টের পাবে

গুনগুন করে

দাশরথি রায়ের ছড়া বলছে কেউ

আর সারি সারি তাকে সাজানো 

লেবু-লবঙ্গ-আচার

পাঁচফোড়ন-হরিতকি সহ

সব মশলার কৌটোর ভিতর 

কিভাবে জোনাকির মতো 

জ্বলে ওঠে আলো।

ভ গী র থ  স র্দা র

পরিচিতি : জন্ম পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরী থানার খেজুরী গ্রামে ৷ 1993 সালের 7 আগষ্ট ৷ শিক্ষা ও পেশা :বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণি বিদ্যাতে স্নাতক ৷ পার্শ্ব শিক্ষক ও গৃহ শিক্ষকতার সাথে যুক্ত ৷

সাহিত্য জীবন : প্রথম থেকেই গল্প লেখা ও পড়ার ঝোঁক ছিল ৷ সালটা 2012 ৷ প্রথম  ” করুণা ” নামের গল্প প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্য জগতে প্রবেশ ৷ তারপর পড়াশোনার জন্য সাহিত্য থেকে খানিকটা সরে আসেন ৷ ধীরে ধীরে কবিতার প্রেমে পড়ে যান৷ তারপর 2018 সাল থেকে আবার সাহিত্য জগতে প্রবেশ ৷ মাসিক কৃত্তিবাস, কবিতা পাক্ষিক, আমার বর্ণমালা , স্রোত, রাঢ় বনতলি, মধ্যবর্তী, সংকল্প, নূপুরধ্বনি,  কৃষাণু সহ আরো অসংখ্য পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে ৷

প্রথম কাব্যগ্রন্থ :আড়ালে আপন করেছি শূন্যতা ৷

২০২০ নন্দীগ্রাম স্রোত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ৷ পাশাপাশি “খেজুরীর মুখ” নামের সাহিত্য পত্রিকার  কবিতা বিভাগের সম্পাদনার সাথে যুক্ত ৷

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

দূরত্ব

তোমার ভেতরে একটা শব্দ ছিল অজন্মা ৷

শূন্যের আরো কাছে গেলে

প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে তার অর্থ ৷

জলের জন্য নদী হওয়া 

ভাঙাচোরা আহবান কার পড়ে আছে কূলে

মিছে ফিরে এসো তুমি পরমহংস

ছায়া খুলে রাখো শরীর 

ধীরগামী হও আপোষহীন পথে

বহুদিন থেকে আমার অপেক্ষার সূত্রপাত

বাকি জীবনটা শুধুই

দূরত্ব ছাড়া কিছুই নয় ৷

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

গুল্মঘর

কাছে পাঠের ডানায় গভীর পালক গেঁথে 

যে অভিযানমনস্ক পাখিরা অবসর খুঁজে যায়

তাদের বলতে যেও না পরাজিত মরসুমি গল্প ৷

দেখো ক্ষণস্থায়ী ভোরের রায়ে আমরা 

জড়োসড়ো হয়ে আছি

দেখতে দেখতে আমরা গুহামানব হয়ে যাচ্ছি

এ গুল্মঘরের টানে …..

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

বাতায়নে বেজে যায়

তোমার অনুতাপের আঁচ লেগে চাঁদের ছায়া গলছে

নীল, আরো ঘন নীল কাঙ্খিত আঁখি

প্রথম বান্ধবীর ভেতর নড়ছে

এত সহজ মুখ

ধ্রুপদ সঙ্গীতে আঁকা চুল

সুর তানে দোলে

বিষাদের মৌন ধ্বনিগুলি

বাতায়নে টুং টাং বেজে যায় ৷

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

ঘনঘোর

বাউন্ডুলে মেঘ এক

আত্মমগ্ন বর্ষার ময়ূর আর এক ৷

মার্জিত জলে আঁচল ভেজা নদী ৷

সহায় সম্বলহীন পাখিরা ডাকছে

আর অহেতুক কৃষ্ণ জুগিয়ে যাচ্ছে ৷ 

এ ঘনঘোর লগ্নে

শ্রীরাধার অগাধ বিরহ ৷

শী র্ষা

পরিচিতি : জন্ম বীরভূমে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলজিতে স্নাতকোত্তর এবং গবেষণা। বর্তমানে মধ্যপ্রদেশে একটি কলেজের অধ্যাপিকা। শখ কবিতা-গল্প-উপন্যাস পড়া এবং টুকটাক লেখা। লেখালিখির সূচনা স্কুলজীবনের সাহিত্যসভা থেকে। একমাত্র বই ‘তারাফুলের শবযাত্রা’ (২০২০)।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

স্বর্গাদপি

হেমন্তকে পুড়িয়ে ফেলছে মাঠ –

প্রসবমৃত্যুর করাত কেই বা সহ্য করতে পারে !

এরূপ হাওয়ার শিরশিরানি মিষ্টত্বে 

ঘেন্না বুলিয়ে দিচ্ছে মাঠের খাঁ খাঁ,

আলোর সূর্য ফুঁ হয়ে যাচ্ছে অভিশাপে –

তারপর ছায়াদেবীর মৃত্যু হলে পৌষের শীতলতা 

নামিয়ে আনছে চরাচর। মায়ের জ্বর আসছে 

খুব – মাঘী জ্বর। ক্যালেণ্ডারের পাতা প্রতিবেশী সান্ত্বনায় 

ডেকে আনছে কোকিলের গলা, পলাশের রক্ত!

মা ঘুমিয়ে পড়েছে – জ্বরের ঘোরে কানে 

বৃষ্টির নাচের মুদ্রা! মা দেখছে –

পেট ভরে উঠেছে ভারে। ফসলি পাহাড়ি বুকে 

আবার জমছে দুধওলা শিস। হেমন্তের জন্য ক্ষমা 

রেখে দিচ্ছে মাঠমাতৃকা। 

একটি জ্বর এভাবেই শোকের বেদানা খুঁটে খাওয়াচ্ছে 

মাঠকে – কৃষকের ধারালো কলঙ্কওলা চাঁদকে 

ক্ষমার নদী দিয়ে ধুয়ে দেবে বলে

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

লালনের গান

না পাওয়ার প্রচারটুকু 

প্রাপ্তির গলা টিপে ধরে –

যেমন রাতের অভিজাত কৃষ্ণকে নিয়ে সূর্যের জ্বালা, 

ঝলসে দিচ্ছে পুড়িয়ে দিচ্ছে নিজস্ব 

দাবদাহের লেলিহান। তুমি দেখছ 

বিড়ি-সিগারেটের ফোঁকাটুকুই, এদিকে 

বাসি করে ফেলা জারুলের বেগুনি তোমার ফুসফুসে 

বাগানবাড়ির বনেদিয়ানা পুঁতে চলেছে –

শ্রমহীন ভরণপোষণের মেদ।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

কালো বেড়ালের জং  

একটি আলো থেকে আরেকটি আলোর দিকে যাওয়ার যে পথ তাকে আমরা অন্ধকার বলে ডাকি। পথের দুধারে অসংখ্য পেরেক ঘাস। শীর্ষাসন অভ্যাস করে। আমি ভাবি নধর পায়ের কথা। ভাবনার হাত ধরে মায়া পৌঁছে দিই পায়ের তলদেশে। পেরেকঘাসের রক্ত চড়ে যাওয়া মাথা আমার অন্ধকার চোখশূন্য মায়া দেখে অট্টহাসি ছড়িয়ে দেয়। যার বজ্রপ্রাবল্যে পরবর্তী আলোর শিখাটি দপ নামে এক শব্দভেদী হিক্কা তুলে ইহলোক ত্যাগ করে।

প্র তা প  হা ল দা র

পরিচিতি : জন্ম শান্তিপুর, নদিয়া। স্নাতকোত্তর , পেশা – গৃহশিক্ষক। প্রকাশিত বই ‘ডোয়া'(২০১৯)। কবিতা আশ্রম , গোরাগাঙনি, খেয়া

ও বিভিন্ন অনলাইন সাহিত্য পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশ হয় কবিতা।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

বিকল্প

নিজেকে পরিসরে চাইছি

যত এগোই ক্রমাগত সবুজের উঁকি

আলোর লয়ে

নদী, আউশমাঠ, কুকসিম।

পাতার ধুলোয় আঙুলে আঙুলে

খুলে যাচ্ছে

এতদিনের জট

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

গহনা

পুকুরে জলের ঢিল , একাকী দিন

এ টলল টলল কারিকুরি

আমার কাছে গোছাহার

এ অলংকার তোমাকে যেই পরাব 

ফেরাউন নই

সেদিনই আমি কবি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

কৌশল

আমার তো তবুও এসবেই আনন্দ

সম্পূর্ণ সমুদ্র নয় চোখ কোরালজলের স্বপ্ন

যেমন তেমন করে চলে যাচ্ছে

বেকারির গন্ধ খানিক পিছু আসে

কাজ নেব?

পেন কারখানায়?

রূপকথারা আমাকে

ঘুম পারায় না, বরং জাগিয়ে রাখে এখন।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

নতুন

এই তো আরেক পৃথিবীর ডেলটা অরিওনিস

টালির চাল থেকে ছাচিকুমড়োর ফুল

বাতাসের আদবে ডাকে।

যে জীবন ছায়া খোঁজে 

আমি বাবার কাছে, গাছের কাছে

এইতো আরেক পৃথিবীর ঈশ্বর!

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

সংস্থান

যেন নিড়িয়ে ফেরা মানুষের নীরব

সংস্থান জরুরি

বেঁচে থাকা ব’লে

না আছে ভাত, না আছে চালাঘর

কেবল ঝড় , কেবলই ঝড়

পুরোনো সেলাই-এর বোতাম ধরে আছি।

             ব্য তি রে ক ।। ১৩ তম বর্ষ 

  অনলাইন ১ম সংখ্যা ।। ২১শে জুলাই, ২০২০

              সম্পাদক : শুভদীপ মাইতি

One thought on “ব্য তি রে ক

Leave a reply to ব্যতিরেক Cancel reply

Design a site like this with WordPress.com
Get started